নারীবাদীদের বক্তব্য ও লেখালেখি নিয়ে নানা ধরণের বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, সোজা কথা বলতে গেলে সমাজে নারীদের অধিকার অর্জনের জন্যে পৃথিবীর নারী সমাজকে দীর্ঘ আন্দোলন ও সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হয়েছে, এই আন্দোলন ও অধিকার অর্জনে ধর্ম ছিল একটি বিশাল বাধা | কবি নজরুলের একটি উক্তি দিয়ে বলতে চাই “মূর্খরা সব শোনো মানুষ এনেছে গ্রন্থ, গ্রন্থ আনেনি মানুষ কোনো” ।
ঊনবিংশ শতাব্দীর একজন খ্যাতিমান বাঙালি সাহিত্যিক ও সমাজ সংস্কারক যাকে বাঙালি নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে গণ্য করা হয় তাঁর নাম বেগম রোকেয়া, তিনি লিখেছিলেন “স্বামী যখন কল্পনার সাহায্যে সুদূর আকাশে গ্রহ নক্ষত্রমালা বেষ্টিত সৌরজগতে বিচরন করেন, স্ত্রী তখন রন্ধনশালায় বিচরন করেন, চাউল ওজন করেন এবং রাধুনীর গতি নির্ধারন করেন ”
ছোটবেলা থেকেই কিছু মিথ্যা শুনে শুনেই বড় হয়েছি , যেমন–
“স্বামীর পায়ের নীচে স্ত্রীর বেহেশত” স্বামীর পা যদিও খুজলি আর পাঁচড়ায় ক্ষত বিক্ষত ।
“স্বামী সেবাই স্ত্রীর ধর্ম” স্বামী যদিও চোর লম্পট আর বাটপার ।
“সংসার সুখের হয় রমনীর গুণে”, মানেটা কি দাড়াচ্ছে, একজন রমনী সত্যই একজন্ জাদুকর, রমনীরা ভেলকিবাজি জানেন|
অন্য দিকে আবার সেই নারীই একজন পুরুষ বিদ্বেষী, “ভাই বড় ধন রক্তের বাধন যদিও পৃথক হয় নারীর কারণ”, মানে দাড়াচ্ছে, নারীরা দেবর অথবা ভাশুর বিদ্বেষী ।
পুরুষদের জন্যে মুরুব্বিরা নির্দেশ দিতেন , “বিয়ের রাতেই বিড়াল মারতে হয়”, মানে হচ্ছে বউকে বাসর রাতেই শায়েস্তা করতে হয় ।
“শাসন করা তারই সাজে সোহাগ করে যে”, মানে দাড়াচ্ছে একজন শিশুকে আদর করে কি ফ্রি স্টাইলে পিটিয়ে মেরে ফেলা যায় ! নাহ, কথাটি বিশ্বাস যোগ্য মনে হয়না।
লেখাটি বেগম রোকেয়ার একটি বিখ্যাত উক্তি দিয়ে শেষ করছি : “যখনই কোন ভগ্নী মস্তক উত্তোলনের চেষ্টা করিয়াছেন, অমনি ধর্মের দোহাই বা শাস্ত্রের বচনরূপ অস্ত্রাঘাতে তাঁহার মস্তক চূর্ণ হইয়াছে। আমরা প্রথমতঃ যাহা মানি নাই, তাহা পরে ধর্মের আদেশ ভাবিয়া শিরোধার্য করিয়াছি। আমাদিগকে অন্ধকারে রাখিবার জন্য পুরুষগন, ঐ ধর্মগ্রন্থগুলিকে ঈশ্বরের আদেশপত্র বলিয়া প্রচার করিয়াছেন। এই ধর্মগ্রন্থগুলি পুরুষরচিত বিধি-ব্যবস্থা ভিন্ন আর কিছুই নহে।”
Share this content:










